বিলগ্নীকরণ নীতির বিরুদ্ধে বি এস এন এল কর্মচারীদের রায়
বি এস এন এল দপ্তরে মেম্বারশিপ ভেরিফিকেশনে পরপর চার বার জয়লাভ করল বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। গত ১লা ফেব্রুয়ারি ২০১১ সারা দেশে ইউনিয়নের সদস্য পদ যাচাই করার এই নির্বাচনে প্রায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এবং ১৫টি কর্মচারী সংগঠন এই নির্বাচন যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। জম্মু-কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিভিন্ন প্রদেশে ২২৭০টি বুথে এই ভোটপর্ব সম্পন্ন হয়। সরকারীভাবে গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি প্রশাসন বামপন্থী বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নকে জয়ী ঘোষণা করে।
কোন প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন : বি এস এন এল দপ্তরের এক কঠিন সময়ে এই মেম্বারশিপ ভেরিফিকেশন অনুষ্ঠিত হলো। শিল্প পরিচালনায় ম্যানেজমেন্টের ভূমিকার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরোধিতার প্রশ্নে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে স্বীকৃত ইউনিয়ন-এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে বি এস এন এল কেন্দ্রীয় সরকারী নীতিতে সরাসরি আক্রান্ত। দশ বছর পথ চলার পর, এই বছরই প্রথম বি এস এন এল আর্থিক রুগ্ণতার কারণে প্রায় ধুঁকছে। প্রায় ১১ কোটি গ্রাহকের কোম্পানি বি এস এন এল দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। গ্রাহক সংখ্যা বাড়লেও আয় ও লাভ দুটিই কমেছে বর্তমান বছরে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর চাহিদামতো শ্যাম পিত্রোদার প্রেসক্রিপশন বিশ্বায়নের নীতি প্রয়োগের সুপারিশ, আন্তর্জাতিক লগ্নীপুঁজির কঠোর হুমকি, ট্রাই ও ডিপার্টমেন্ট অব টেলিকম বি এস এন এল বিরোধী মনোভাব প্রভৃতি কারণে বি এস এন এল আজ চরম সঙ্কটের মুখে। ৩ লক্ষ কর্মচারী ও অফিসারদের শিল্প রক্ষার সংগ্রাম জোরদার করার জন্য এখনও দেশের আঙিনায় ১০টি টেলিকোম্পানির অন্যতম বি এস এন এল। দীর্ঘদিন এই বি এস এন এল সম্প্রসারণ উদ্যোগহীনতায় ভুগছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই চাইছে না বি এস এন এল কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ ঘটুক। তাই কর্মচারীদের বারবার ধর্মঘটের পথে যেতে হচ্ছে। বিশ্বায়নের কঠোর নীতি, ছাঁটাই ও স্বেচ্ছা অবসর চালু করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু কর্মচারী বিরোধিতার কারণে আটকে আছে ভি আর এস, সি আর এস প্রস্তাব। এমনকি বহুচর্চিত শ্যাম পিত্রোদা কমিটির সুপারিশ ও বিলগ্নীকরণের নীতিও থমকে গেছে কর্মচারীদের লড়াকু মানসিকতার জন্য। সম্প্রতি গত ১লা ও ২রা ডিসেম্বর, ২০১০ বি এস এন এল দপ্তরে ঐক্যবদ্ধ ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট সারা দেশের শ্রমজীবী মানুষের সমর্থন পেয়েছে। কোল ইন্ডিয়াতে শেয়ার বিক্রি করার পর ইউ পি এ সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল বি এস এন এল। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে স্বীকৃত ইউনিয়নের ভূমিকা। ফলে সাম্প্রতিককালের লড়াইগুলিতে কখনও বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এককভাবে, কখনও বা যৌথ মঞ্চ গঠনের মধ্যে দিয়ে এই লড়াইকে বিকশিত করেছে। উপরিউক্ত প্রেক্ষাপটে বি এস এন এল দপ্তরে এবারকার মেম্বারশিপ ভেরিফিকেশনে শুধু বি এস এন এল কর্মচারীদের আগ্রহ ছিল তা নয়, সমগ্র দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের কর্মচারী আন্দোলন তাকিয়ে ছিল এই নির্বাচনের দিকে।
নির্বাচনের ফলাফল কী হলো : ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে দরকষাকষি করার জন্য বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন Majority Representative ইউনিয়ন হিসাবে প্রায় ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়ে আরও একবার কর্মচারীদের আস্থা অর্জন করলো। বি এস এন এল ই ইউ নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ফোরাম এবং এন এফ টি ই নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের মধ্যে এই লড়াই তীব্র হলেও সারা দেশে বি এস এন এল ই ইউ প্রায় ২৭ হাজার ভোটে বিজয়ী হয়েছে। ৩৫টি সার্কেলের মধ্যে ২৩টি সার্কেলে এককভাবে বি এস এন এল ই ইউ সংখ্যাগরিষ্ঠ ইউনিয়ন হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সারা দেশে ভোট পেয়েছে বামপন্থী কর্মচারী সংগঠন বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ১,০৬,৯৭১(৪৭ শতাংশ), এন এফ টি ই ৮০,৩০০ (৩৫ শতাংশ) আই এন টি ইউ সি সমর্থিত এফ এন টি ও ১৬,৯৫১ (৭শতাংশ) মাত্র তিনটি সার্কেলে এন এফ টি ই স্থানীয় ইউনিয়ন এর পরিচয়ে কথা বলার সুযোগ পাবে। আই এন টি ইউ সি সমর্থিত সংগঠন এফ এন টি ও এককভাবে লড়াই করে কোন রাজ্যেই জয়লাভ করতে পারিনি।
বিলগ্নীকরণ নীতির বিরোধিতাই ছিল নির্বাচনের মূল ইস্যু : নির্বাচনের ফলাফলে একথা পরিষ্কার যে ইউ পি এ সরকারের বিলগ্নীকরণ নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বি এস এন এল-এর সাধারণ কর্মচারীরা। বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এই প্রশ্নেই কর্মচারীদের সমর্থন চেয়েছিল। বিলগ্নীকরণের বিরুদ্ধে লড়াইকে জোরদার করা এবং বি এস এন এল রক্ষার সংগ্রামকে বিকশিত করার জন্যই প্রায় প্রতিটি রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মচারীদের সমর্থন পেয়েছে বি এস এন এল ই ইউ। আপস নয়, লড়াকু সংগঠন হিসাবে দেশী-বিদেশী পুঁজির দাসত্বকারী ও কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিদিনই লড়াই করতে হয়েছে বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নকে। সর্বশেষ দেশের টেলিকম দুর্নীতি নিয়েও সোচ্চার হয়েছিল বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। ‘‘ব্যাপকতম কর্মচারী ঐক্য গঠন করার মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিকে প্রতিহত করা যায়’’ — ইউনিয়নের এই বক্তব্য কর্মচারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে গ্রহণ করেছে। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে কর্মচারীদের সুস্পষ্ট রায় আগামী দিনের লড়াই সংগ্রামের বর্শাফলক থাকুক বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের হাতে। নতুন মন্ত্রী চেয়ার পেয়েই আরও একটি নতুন টেলিকম নীতির ঘোষণা, যা আসলে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকার টেলিকম দুর্নীতি থেকে দেশবাসীর দৃষ্টিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। অবশ্যই এই নতুন নীতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বি এস এন এলের গুরুত্ব কমিয়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলির আরও গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক পুঁজির কাছে দেশের টেলিবাজারকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলা যায়। বিশ্বায়ন ও উদারীকরণ নীতিতে শ্রম আইন ক্রমশই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। ফলে ছাঁটাই, কর্মী সঙ্কোচন, ব্যয় সঙ্কোচন, অর্জিত অধিকার খর্ব করা ইত্যাদি ইস্যুগুলিতে আগামী দিনে লড়াই অনিবার্য। গরিব ভারতে টেলিকম গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭০ কোটি, ব্যবসার পরিমাণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকা। ফলে আন্তর্জাতিক লগ্নী পুঁজির দাবি এই বাজারকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। আর এ কাজ করতে হলে বি এস এন এল-কে হত্যা করতে হবে। নির্বাচনী প্রচার অভিযানে এই বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছিল। দেশের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে, শিল্পের সম্প্রসারণের স্বার্থে ও গ্রাহকের স্বার্থে এক উন্নত বি এস এন এল পরিষেবার দাবিতে দেশব্যাপী লড়াই আন্দোলন গড়ে তুলুক বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন—কর্মচারী ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনের ফলাফলে।
আর্থিক দাবি-দাওয়া আন্দোলন ও সংগঠনের প্রতি আস্থা : বি এস এন এল দপ্তরে বেতন চুক্তি ও প্রোমোশন চুক্তির এক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটেছে এই নির্বাচনে। গত নির্বাচনে একটি ভালো বেতন চুক্তির দায়িত্ব পেয়েছিল ইউনিয়ন। রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের বেতন চুক্তিতে স্বীকৃত ইউনিয়নের অবশ্যই এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বর্তমান। সরকারের আর্থিক নীতির প্রতিফলন ঘটে এই দরকষাকষির রাস্তায়। কর্মচারীদের চাহিদা ছিল আত্মসমর্পণ না করে কর্মচারী স্বার্থ সুরক্ষিত করে একটি ভালো বেতন চুক্তি করা হোক, যাতে কর্মচারীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে। দীর্ঘ ১৮ মাস ধারাবাহিক লড়াই করার মধ্যে দিয়ে ৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে — ফলে লড়াই করে সাফল্য পাওয়া সম্ভব, কর্মচারীর মনে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। বি এস এন এল গঠনের দীর্ঘ ১০ বছর বাদে কর্মচারীদের প্রমোশন নীতি তৈরির সফলতা ও বেতন চুক্তির সাফল্য এই নির্বাচনে এক ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছে বলে আমাদের ধারণা। এককথায় বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন কর্মচারীদের ইতিবাচক ভোটে জিতেছে। গত ৬ বছর ধরে স্বীকৃত ইউনিয়ন পরিচয়ে কর্মচারী স্বার্থ রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন এর প্রতি আস্থাজ্ঞাপন করেছে কর্মচারীরা এই নির্বাচনে — সারা দেশে বামপন্থী কর্মচারী আন্দোলনে এটা একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল পরিবর্তনের ছবি খারিজ : এবারে রাজ্যে বি এস এন এল দপ্তরের নির্বাচনে বিরোধী নেতা-নেত্রীদের ছবি টাঙিয়ে, পরিবর্তনের স্লোগান তুলে কর্মচারীদের ভোট চেয়েছিল বিরোধী ইউনিয়নগুলি। কর্মচারীরা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের পরিবর্তনের স্লোগান। ফলাফলের ইঙ্গিত পেতেই ছবিগুলি উধাও হয়েছে বি এস এন এল দপ্তরগুলি থেকে। এই রাজ্যের ৪টি সার্কেলের মধ্যে প্রতিটিতেই বি এস এন এল ই ইউ জয় লাভ করেছে। প্রায় ১৭ হাজার ভোটারের মধ্যে প্রায় ৮ হাজারের বেশি ব্যবধানে এই রাজ্যে বি এস এন এল ই ইউ জিতেছে যা সারা দেশের মধ্যে প্রাপ্ত ভোটের দ্বিতীয় স্থানে ( ১০৮০০)। এই রাজ্যে তৃতীয় স্থানে পরিবর্তনপন্থীরা। সমস্ত রাজ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ ডিভিসনে এই সংগঠন প্রথম স্থানে। সারা দেশে ইউনাউটেড ফোরাম গঠন করা হলেও এই রাজ্যে বি এস এন এল ই ইউ-কে এককভাবেই লড়াই করে জিততে হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বহিরাগত রাজনৈতিক হুমকি করে উপেক্ষা করেই কর্মচারীরা আস্থা জানিয়েছে ইউনিয়নের প্রতি। এই রাজ্যে ৪টি সার্কেলে প্রাপ্ত ভোটের চিত্রটি নিম্নরূপ : ১৬,৭৭৫টি প্রদত্ত ভোটের মধ্যে বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন পেয়েছে ১০,৮৭৮টি ভোট, এন এফ টি ই প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা ২৪৪০ এবং আই এন টি ইউ সি সমর্থিত সংগঠন এফ এন টি ও-র প্রাপ্ত ভোট হল ২৯৪২। কর্মচারীরা প্রত্যক্ষ করছেন যে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে চলছে হিংসা, সন্ত্রাস, রক্তপাত ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা দখলের এক উন্মুক্ত লড়াই। সমগ্র রাজ্য জুড়ে তৈরি করা হয়েছে এক অরাজকতা ও ভয়ের পরিবেশ। বিগত কয়েকমাস আমাদের দপ্তরের অভ্যন্তরে তা আমদানি করা হয়েছে। অফিস বন্ধ করে দেওয়া, ভয় দেখানো হুমকি শাসানি চলছেই। ওদের অনুমতি না নিয়ে নাকি আমাদের দপ্তরের আমরা সভা করতে পারব না। শ্রমিকশ্রেণীর লড়াই-এর প্রতীক লালঝাণ্ডাও নাকি খুলে ফেলতে হবে আমাদের সভাগুলি থেকে। এ এক কঠিন বিষাক্ত পরিবেশ। এই সমস্ত অরাজকতা তৈরি করে প্রতিযোগিতার বাজারে বি এস এন এল কে আরও পিছিয়ে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিগত মেম্বারশিপ ভেরিফিকেশনে নেতা বা নেত্রীর কাটআউট আমাদের দপ্তরগুলিতে লাগিয়ে দিয়ে পরিবর্তন চেয়েছিল ওরা। বি এস এন এল সাইন বোর্ডটাকে তুলে দিয়ে ব্যক্তি পুঁজির নামাঙ্কিত সাইন বোর্ড লাগাবার পরিবর্তন যারা চেয়েছিলেন — সরাসরি কর্মচারীরা প্রত্যাখ্যান করেছে তাদের, জয়ী হয়েছে বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন।
এখন যে কাজ করতে হবে : মেম্বারশিপ ভেরিফিকেশনে জয়লাভ করেছে বি এস এন এল ই ইউ একথা সত্য, কিন্তু আগামীদিনে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বড় লড়াইয়ে যেতে চায় আমাদের ইউনিয়ন। সে লড়াই হবে বি এস এন এল রক্ষার লড়াই, ইউ পি এ সরকারের আর্থিক নীতি পরিবর্তনের লড়াই। ব্যাপকতম কর্মচারী ঐক্য গড়ে তুলে সেই কাজটি আমাদের করতে হবে। অন্য ইউনিয়নের সদস্যদের আমাদের সঙ্গে নিতে হবে। আমাদের কাজের পরিকল্পনা ও আন্দোলনের মাধ্যমেই তাদের মন জয় করার কঠিন দায়িত্ব পালন করবেন আমাদের সংগঠক ও নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় সরকার পুনরায় বিলগ্নীকরণ তথা শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করবেই। বি এস এন এল কে রুগ্ণ করে দেওয়ার চক্রান্তে রত হয়েছে দেশী- বিদেশী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি বিভিন্ন কায়দাতে। সরকার বা ম্যানেজমেন্ট এই কাজে মদত দিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রক্ষার দায়িত্ব যাদের হাতে ন্যস্ত তারাই বি এস এন এল-কে বিক্রি করে দিতে তৎপর। অপরদিকে বি এস এন এল রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছে কর্মচারী ভোটে নির্বাচিত বি এস এন এল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন। এই কাজে একজিকিউটিভ ও নন-একজিকিউটিভ কর্মচারী অফিসারদের ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে রচিত হবে আগামী আন্দোলনের রূপরেখা। এরই সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন, প্রমোশন, পেনশন সংক্রান্ত যে দাবিগুলি আমরা এখনও আদায় করতে পারিনি সেই দাবিগুলি নিয়েও লড়াই আন্দোলন তীব্রতর হবে। এই পটভূমিকায় পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কয়েক মাসের মধ্যে। এই নির্বাচনে আমাদের যথাযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। পশ্চিমবাংলার বুকে ক্রমবর্ধমান হিংসা, নৈরাজ্য, সন্ত্রাস, হানাহানি দূর করে শান্তির বাতাবরণ তৈরির উদ্যোগ আমাদের এখনই নিতে হবে। নিজের দপ্তরের অভ্যন্তরের লড়াইয়ে আমরা জয়ী হয়েছি এ কথা সত্য। কিন্তু বি এস এন এল রক্ষার লড়াইয়ে মূল সাফল্য পেতে হলে বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তির জয়কে অবশ্যম্ভাবী করবার চরমতম দায়িত্ব আমাদের নিতে হবে — এছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। কর্মচারী সংগঠকরা সেই লক্ষ্যে এখনই কাজ শুরু করুন।
(লেখক রাজ্য সম্পাদক, বি এস এন এল কো-অর্ডিনেশন কমিটি, পশ্চিমবঙ্গ)

Recent comments
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 39 weeks ago
1 year 39 weeks ago
1 year 39 weeks ago