২৩শে ফেব্রুয়ারি লাখো মানুষের সংসদ অভিযান
আগামী ২৩শে ফেব্রুয়ারির সংসদ অভিযান দেশের রাজধানীতে হতে চলা কোনো সাধারণ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন নয়। দেশের সব কোণ থেকে আসা শ্রমিকশ্রেণীর এক অভূতপূর্ব, বিশাল ঐতিহাসিক সমাবেশ এবং সি আই টি ইউ, এ আই টি ইউ সি, এইচ এম এস, এ আই সি সি টি ইউ, এ আই ইউ টি ইউ সি, ইউ টি ইউ সি, টি ইউ সি সি, আই এন টি ইউ সি, শিল্প শ্রমিক এবং সার্ভিস সেক্টরের কর্মচারীদের জাতীয় ফেডারেশনগুলির যৌথ নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দেখার জন্য দেশ অপেক্ষা করে আছে।
তুঙ্গে ওঠা প্রচার
রাজ্যগুলি থেকে আসা মেহনতী মানুষকে সংগঠিত করে এই অভিযানে অংশ নিতে ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ এবং একক প্রচার অভিযানের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যাচ্ছে লাখো শ্রমিক ঐ দিন দিল্লির রাস্তায় পা ফেলবেন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে দেশের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের ইতিহাসে এক চিরকালীন উজ্জ্বল অধ্যায়ের সৃষ্টি হবে।
লাখো অভিযাত্রীর পক্ষে রামলীলা ময়দানের আশপাশের একটি মাত্র বিন্দু থেকে মিছিল করে যাওয়ার অসম্ভবতাকে মনে রেখে স্থির হয়েছে যে সংসদ অভিযান শুরু হবে রামলীলা ময়দান, রাজঘাট, সমতাস্থল স্টেট এন্ট্রি রোড, আজমেরি গেট এলাকার মতো বহু বিন্দু থেকে আর শেষে মিলিত হবে পার্লামেন্ট স্ট্রিটে। তাছাড়া হাজারো মানুষ সরাসরি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে পৌঁছাবেন।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রগুলি শ্রমিকশ্রেণীর এই স্মরণীয় অভিযানে সারা দেশ থেকে আসা অভিযাত্রীদের সমাবেশ করার জন্য তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতার তুঙ্গে উঠেছে। রাজ্য শাখাগুলি ও শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনগুলির উদ্যোগকে আরো শক্তি জোগাতে সংগঠনগুলির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অসংখ্য কনভেনশন ও জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের চারদিকে কর্মীদের অজস্র সভাগুলিও তাঁরা করেছেন।
বিক্ষোভকারীদের আসা ও থাকার ব্যবস্থাপনা
যেহেতু লাখো মানুষের একদিনেই দিল্লি পৌঁছানো অসম্ভব। দিল্লি পৌঁছানো শুরু হবে ১৯শে ফেব্রুয়ারি। যাঁরা আগে আসছেন তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে সমগ্র রামলীলা ময়দানব্যাপী অস্থায়ী তাঁবুতে। এছাড়া পুরানো আর নতুন দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় কয়েকডজন কমিউনিটি হলও নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এই সব আবাসস্থলগুলিতে লক্ষাধিক মানুষ থাকতে পারবেন। এই অগ্রবর্তী বাহিনীগুলি ছাড়াও ২৩শে ফেব্রুয়ারি সকালে অংশগ্রহণকারী ট্রেড ইউনিয়নগুলি দ্বারা দিল্লির আশপাশের রাজ্যগুলি থেকে আরো লাখো মানুষ এসে জমায়েত হবেন। মহিলাদের অংশগ্রহণ হবে নজরকাড়া।
সি আই টি ইউ কেন্দ্র ২০১০-র অক্টোবর থেকে প্রস্তুতির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে। পূর্ণ সম্পাদকমণ্ডলীর তিনদিনব্যাপী বর্ধিত সভা অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সকলে মিলে এক ঐক্যের কনভেনশন
২০০৯ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর নতুন দিল্লির মবলঙ্কর হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের জাতীয় কনভেনশনেই বর্তমান ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিলো। আক্ষরিক অর্থেই দেশের সমস্ত জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র এতে অংশ নিয়েছিলো। এই কনভেনশন নিম্নোক্ত পাঁচদফা দাবিসনদ তৈরি করেছিলো :
উপযুক্ত সংশোধনী ও বিতরণমূলক পদক্ষেপ যেমন সার্বিক গণবণ্টন ব্যবস্থা ও ভোগ্যপণ্য বাজারের ফাটকাবাজি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে হবে।
কড়া হাতে সমস্ত মূল শ্রম আইনের প্রয়োগ করতে হবে অথবা শ্রম আইনভঙ্গের জন্য উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
মন্দা আক্রান্ত কর্মক্ষেত্রগুলির কর্ম সুরক্ষার সঙ্গে শিল্পের উৎসাহবৃদ্ধির প্যাকেজ তৈরি করার বাস্তবসম্মত আগাম ব্যবস্থা এবং কাঠামোগত নির্মাণে কর্মবৃদ্ধির জন্য গণ-বিনিয়োগের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
অসংগঠিত শ্রমিক সামাজিক নিরাপত্তা আইন, ২০০৮-এর দারিদ্র্য রেখার উপর ভিত্তি করে তৈরি স্কিমগুলিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য যোগ্যতা নির্ধারণ ইত্যাদি সমস্তরকম শর্ত বাতিল করার পদক্ষেপ নিতে হবে এবং চুক্তি/অনিয়মিত শ্রমিকসহ সমস্ত অসংগঠিত শ্রমিকদের জন্য জাতীয় সাধারণ সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য এক জাতীয় তহবিল গড়ে তুলতে হবে।
বাজেটের ঘাটতি মেটানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারী সংস্থাগুলির শেয়ার বেচা চলবে না।
এই দাবিগুলির ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়নগুলি যৌথভাবে তাদের আন্দোলন ধারাবাহিকতায় ক্রমাগত তীব্র করে তোলে। বর্তমান পর্যায়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলি যে কয়টি বৃহৎ আন্দোলন সংগঠিত করেছে তা এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা দরকার। ‘‘সারা ভারত প্রতিবাদ দিবস’’ পালন করতে ২০০৯-এর ২৮শে অক্টোবর কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ‘সকলে মিলে এক’ ঐক্যের ডাকে সারা দেশজুড়ে লাখো শ্রমিক রাস্তায় নেমে এসেছিলেন নয়তো কারখানার গেটে বেরিয়ে এসেছিলেন। পরেরটি ছিলো ২০০৯-এর ১৬ই ডিসেম্বর একই সঙ্গে সংসদের সামনে। সমস্ত রাজ্যের রাজধানীতে। সমস্ত প্রধান শিল্পশহরে অত্যন্ত সফল ধরনা কর্মসূচী। তার পরেরটি ছিলো ২০১০-এর ৫ই মার্চ দেশজুড়ে সত্যাগ্রহ/জেল ভরোর কর্মসূচী। প্রায় দশ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে এই কর্মসূচী অত্যন্ত সফল হয়েছিলো। অবশ্য ২০১০-এর ৭ই সেপ্টেম্বরের ধর্মঘট সংগ্রাম ছিলো এই পর্যায়ের সবচেয়ে শক্তিশালী আন্দোলন। স্বাধীনতাউত্তরকালে আই এন টি ইউ সি সমেত সমস্ত কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যুক্তভাবে অংশগ্রহণ দেশ এই প্রথমবার দেখলো। দেশের অর্থনীতির সমস্ত ক্ষেত্র ও ভাগ মিলিয়ে প্রায় দশ কোটি শ্রমিক এই ধর্মঘটে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৯-এর অক্টোবরে যে আন্দোলনের কর্মসূচীর সূত্রপাত হয়েছিলো, সেই পর্যায়ের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বিন্দু যদি ধরা হয়ে থাকে ২০১০-এর ৭ই সেপ্টেম্বর, তবে ২৩শে ফেব্রুয়ারিকে ধরতে হবে ইউ পি এ-২সরকারের জনবিরোধী নীতিগুলির বিরুদ্ধে সারা দেশজুড়ে শ্রমিকশ্রেণীর যুক্ত সংগ্রামের নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসাবে।
প্রেরণার কারণগুলি
মনে রাখা অত্যন্ত দরকার, ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ ডাকে জনগণের যে বিশাল সাড়া আশা করা হচ্ছে তার পিছনে একটি বড় কারণ নিঃসন্দেহে হলো কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির ঐতিহাসিক ঐক্য যার ফলে একেবারে নিচেরস্তরের শ্রমিকদের মধ্যে বিশাল উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু সরকারের জনবিরোধী নীতির কারণে জনগণের উপর যে অর্থনৈতিক দুর্গতি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তাতে মেহনতী মানুষ আজকের সরকারের উপর প্রচণ্ড বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এবং এই পরের কারণটিই ২৩শে ফেব্রুয়ারি সংসদ চলো ডাকে জনগণকে সমবেত করায় এক বড় ভূমিকা পালন করছে।
২০০৯-এর সেপ্টেম্বরে বর্তমান পর্যায়ের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের যে সূচনা হয়েছিলো তার বৈশিষ্ট্য নিশ্চিতভাবেই ছোট করা যাবে না। কিন্তু একই সঙ্গে দীর্ঘসময় প্রায় দুই দশক ধরে ভারতের ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলনকে অভিমুখ দেওয়ার ক্ষেত্রে স্পনসরিং কমিটি অব ট্রেড ইউনিয়নের ভূমিকার গুরুত্বও কোনোভাবেই কমানো যাবে না।
আমাদের মনে রাখা দরকার যে ভারতের শ্রমিকশ্রেণী পরপর সরকারগুলির নিও-লিবারেল নীতির বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুক্ত সংগ্রাম করে আসছেন। আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি যে, এই সব সংগ্রামের ফল হিসাবেই দেশের শাসকশ্রেণীগুলি তাদের বিপর্যয়কর নিও-লিবারেলিজমের নীতিগুলির প্রয়োগে সংহত হতে বাধ্য হয়েছিলো। ট্রেড ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ স্পনসরিং কমিটি অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নসের নেতৃত্বে ভারতীয় শ্রমিকশ্রেণী নিও-লিবারেল নীতির বিরুদ্ধে ক্রমাগত তিক্ত সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে। এই সংগ্রামগুলি মূলত তিনটি স্তরে হয়েছে : শিল্পগত, রাজ্যগত ও জাতীয়। আর সংগ্রামের প্রকাশ হয়েছে বিশাল সমাবেশ, জঙ্গী বিক্ষোভ, গ্রেপ্তারবরণ আর অবশ্যই ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে।
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের নীতির বিরুদ্ধে ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রধান উল্লেখনীয় বিষয় হলো এই যে, ১৯৯১-এর নভেম্বর (দেশে নয়া লিবারেল নীতি অনুপ্রবেশের বছর) থেকে ২০০৮-এর আগস্টের (আমেরিকার আর্থিক বিপর্যয়ের বছর) মধ্যে দেশজুড়ে ১২টি সাধারণ ধর্মঘট অসাধারণ সাফল্যের সঙ্গে পালিত হয়েছে। প্রতিটি ধর্মঘটেরই সাফল্য তার আগের ধর্মঘটের সাফল্যকে ছাপিয়ে গেছে। তাছাড়া শিল্প ও সার্ভিস সেক্টরে অসংখ্য ধর্মঘট সমেত সংগ্রাম নিয়মিতভাবে হয়েছে। ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন হিংস্র বিদেশী বহুজাতিকদের বিরুদ্ধেও খুন, কারাগার, কর্মচ্যুতিসমেত সমস্ত আক্রমণের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়ছে।
আজকের দিনে ঐক্যবদ্ধ ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রসার দীর্ঘ দু’দশক ধরে স্পনসরিং কমিটি অব ট্রেড ইউনিয়নসের নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের বাজার অর্থনীতির দর্শনের নিও-লিবারেল নীতির বিরুদ্ধে মেহনতী মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে তীব্র বিরোধিতা ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফল। অতীতের যুক্ত ফোরাম আর বর্তমানের প্রসারিত ঐক্যের মঞ্চকে একইসঙ্গে পারস্পরিক ও পরিপূরক হিসেবে দেখতে হবে।
শ্রমিকশ্রেণীর বক্তব্যের যথার্থতা
সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের অধীন নিও-লিবারেল নীতির উকিলরা নিও-লিবারেল নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম ও বিরোধিতার সমালোচনা করে। এখন সময় হয়েছে পুঁজিবাদের বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে নিও-লিবারেল নীতি অনুসরণকারী সরকারের জাতীয়তা-বিরোধী, উন্নয়ন-বিরোধী, জনগণ-বিরোধী চরিত্র জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার অভিযান চালিয়ে তুলে ধরে দেখানো যে, এবিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কত সঠিক। শ্রমিকশ্রেণী ও জনগণকেও এবিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে যে, কিভাবে আমাদের দেশে সম্পূর্ণ অর্থনীতির বিরাষ্ট্রীয়করণের বিরুদ্ধে আমাদের সফল প্রতিরোধ কিছুটা হলেও সঙ্কট ও ধ্বংসের হাত থেকে ভারতীয় আর্থিক ব্যবস্থাকে বাঁচিয়েছে। আমাদের নেতৃত্ব ও কর্মীবাহিনীকে এই জরুরী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
শ্রেণী সংগ্রামের আদর্শ আমাদের শিখিয়েছে যে, সঙ্কটের হাত থেকে বাঁচতে পুঁজিপতি শ্রেণী দমনপীড়নের রাস্তা নিয়ে সঙ্কটের বোঝা শ্রমিকের উপর চাপিয়ে দিতে চায়। এই আদর্শগত শিক্ষার সত্যতায় বর্তমান পরিস্থিতিতেও সারা পৃথিবীজুড়ে শ্রমিকশ্রেণী পুঁজিবাদী আক্রমণের সামনে লড়ছে। সঙ্কট জর্জরিত পুঁজিপতিশ্রেণী একের পর এক শ্রমিক বিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। তাছাড়া তীব্র বাজার স্থবিরতার কারণে পুঁজিপতিশ্রেণী তাদের মুনাফা ক্ষয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পুঁজিপতিমুখী শাসকশ্রেণীর কাছ থেকে বিপুল সুবিধা আদায় করছে। এইসব সুবিধা নেওয়া হচ্ছে ‘উৎপাদনশীলতা’ বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ আর বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকার নামে। এইসব শ্রমিক-বিরোধী পরিকল্পনার পিছনে আসলে আছে অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রভাব থেকে পুঁজিপতিশ্রেণীকে বাঁচানোর স্বার্থ।
এটা স্বাভাবিক যে এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সমাজের বিভিন্ন শক্তি তাদের নিজস্ব শ্রেণী পরিচিতি অনুযায়ী কাজ করবে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের অবশ্যই বুঝতে হবে যে দেশগুলির পুঁজিপতিমুখী সরকার পুঁজিপতি শ্রেণীকে যে বিপুল সুবিধা দিচ্ছে তা তো নিজেদের শ্রেণীদায়িত্ব হিসাবেই। একইভাবে সরকারের শ্রমিক-বিরোধী চরিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠছে তার শ্রমিক-বিরোধী পদক্ষেপ যেমন মজুরি বৃদ্ধি বন্ধ, যৌথ দর কষাকষির উপর নিয়ন্ত্রণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উপর এবং ধর্মঘটের অধিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা, পুঁজিপতিশ্রেণীর স্বার্থে আইনপ্রণয়ন ও বিচার ব্যবস্থায় শ্রমিক-বিরোধী ভূমিকার মধ্য দিয়ে।
স্ব-অনুসন্ধানের পদক্ষেপ হিসাবে আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, নিও- লিবারেল নীতির বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম এখনও মোটামুটি রক্ষণাত্মক। অবশ্য বর্তমান পরিস্থিতি শ্রমিকশ্রেণীর আক্রমণাত্মক ভূমিকা দাবি করে। আমাদের বোঝা দরকার পুঁজিবাদের গভীর সঙ্কট সত্ত্বেও নতুন সমাজ ব্যবস্থার জন্ম কখনও স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে না। শ্রমিকশ্রেণীর আন্দোলনকে শ্রেণীসংগ্রামের আদর্শে দৃঢ় নিষ্ঠাবান হয়ে ব্যবস্থাটার বিরুদ্ধে সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।
আগামী সংগ্রামের অভিমুখ
অতীব উৎসাহের বিষয় এই যে, সরকারের জনবিরোধী ও জাতীয়তা-বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শ্রমিকশ্রেণীর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম আদর্শগত বিভেদের বেড়া ভেঙেছে। সমস্ত শরিকের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত এই ঐক্যের মঞ্চের প্রসার ও শক্তি বৃদ্ধির কাজ। একইসঙ্গে যে শক্তিগুলি শ্রেণীসংগ্রামের আদর্শে আস্থাবান তারা যাতে শ্রেণীসংগ্রামের পক্ষের শক্তিগুলিকে ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী করতে পারে তার কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
একথা সত্য যে নিও-লিবারেলপন্থা সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়ে গেছে আর ‘‘সঙ্কট নিশ্চিতভাবেই নয়া-লিবারেল তত্ত্বের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।’’ ১৯৭০-এর দশকে আবির্ভূত পুঁজিবাদী সঙ্কটের মোকাবিলা করতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি এই সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের মডেল পেশ করেছিলো। এবার একই সঙ্কটের পুনরাবির্ভাবে এক বস্তুনিষ্ঠ অবস্থার বিকাশ ঘটেছে যার ফলে শ্রমিকশ্রেণীর সামনে উপস্থিত হয়েছে নতুন জনগণস্বার্থবাহী প্রগতিশীল সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লক্ষ্যে সংগ্রামের সুযোগ।

Recent comments
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 39 weeks ago
1 year 39 weeks ago
1 year 39 weeks ago