বি পি এল-র চাল দেয়নি তৃণমূলের পঞ্চায়েত, অনাহারেই মারা গেলেন হাসনাবাদের সুন্দরী বিবি

হাসনাবাদ, ১৪ই আগস্ট — দিনের পর দিন তিনি ঘুরেছিলেন প্রাপ্য চালের আশায়। পাননি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত দিনের পর দিনই ফিরিয়ে দিয়েছে তাঁকে। কোনো কাজের ব্যবস্থাও করে দেয়নি পঞ্চায়েত। ঘরে যে সামান্য দানাও নেই, বারবার বলেও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্রেফ না খেতে পেয়েই মারা গেলেন সুন্দরী বিবি।

ঘটনা হাসনাবাদ ব্লকের মুরারীশা গ্রাম পঞ্চায়েতের চালতাবেড়িয়া গ্রামের। হতদরিদ্র সংখ্যালঘু মহিলা সুন্দরী বিবি (৫০) অনাহারে মারা গেলেন শনিবার। তাঁর স্বামী শুকচাঁদ (৬১) প্রতিবন্ধী। তাঁর কর্মক্ষমতা নেই। ফলে কোন আয় ছিল না। কোন রকমে দিন চলতো। তাঁরা দু’জনেই বি পি এল তালিকাভুক্ত হলেও তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত থেকে তাঁদের প্রাপ্য খাদ্যশস্য বারবার চেয়েও না পাওয়ায় ক্রমাগত অনাহারে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে রবিবার জানান স্থানীয় মানুষ। এদিন সকালে চালতাবেড়িয়া গ্রামের মানুষ সুন্দরী দেবীর অনাহারে মৃত্যুর জন্য কার্যত স্থানীয় পঞ্চায়েতকেই দায়ী করেন। গ্রামবাসীরা জানান, বি পি এল পরিবারের জন্য বরাদ্দ ৩৫ কিলো চাল যাতে তাঁকে দেওয়া হয় সেজন্য পঞ্চায়েত অফিসে তৃণমূলের নেতাদের কাছে দিনের পর দিন তিনি ঘুরেছেন। কিন্তু পাওয়‌া যায়নি একদানা চালও। পঞ্চায়েতে গিয়ে খালি শুনতে হয়েছে ‘‘চাল নেই।’’ ফলে অনাহারে কেটেছে দিনের পর দিন। খোলাবাজার থেকে খাদ্য কিনবেন সেই সামর্থ্য তাঁর ছিল না। পঞ্চায়েতে কোন চাল না পেয়ে প্রাণের দায়ে সুন্দরী দেবী ১২ই আগস্ট স্থানীয় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের সাথে দেখা করেন। জানান পঞ্চায়েত থেকে চাল না পাওয়ার কথা। মৌখিকভাবে বি ডি ও তাঁকে ১৬ই আগস্ট দেখা করতে বলেন। কিন্তু আর ব্লক অফিসে যাওয়া হলো না সুন্দরী বিবির। আর কোন চাল চাইতে পঞ্চায়েতে যাবেন না সুন্দরী বিবি। ক্রমাগত অনাহারে এবং এতো হাঁটাহাটি করার ধকল সহ্য করতে না পেরে তিনি শনিবার সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। স্থানীয় মানুষ অ‍‌চৈতন্য অবস্থায় তাঁকে বহিরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। রাতে ৮টা নাগাদ তিনি মারা যান। তৃণমূল পঞ্চায়েতের বঞ্চনায় শেষ পর্যন্ত অনাহারেই মারা গেলেন সুন্দরী বিবি। রবিবার সকালে স্থানীয় এলাকায় তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

এদিন অনাহারে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন সি পি আই (এম) জেলা কমিটির সদস্য শক্তি মুখার্জি। তিনি বলেন, বি ডি ও অথবা স্থানীয় পঞ্চায়েত কেউই সুন্দরী বিবির প্রাপ্য বি পি এল কোটার চাল দেওয়ার জন্য কোন ব্যবস্থা না করায় অনাহারে প্রাণ হারাতে হয়েছে তাঁকে। গরিব মানুষের চাল নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বি পি এল তালিকাভুক্ত অনেকেই প্রাপ্য চাল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। চাল কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগ্ন দলতন্ত্র চলছে পঞ্চায়েতে। গরিব মানুষের মুখের গ্রাসও কেড়ে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই জেলায় তৃণমূলীরা কৃষকের জমি কেড়েছে। ঘরবাড়ি ভেঙেছে। লুট করেছে ফসল, ধান, পুকুরের মাছ। ধর্ষিতা হয়েছেন কৃষক রমণী। ব্লক থেকে এক মাস আগে বি পি এল তালিকাভুক্তদের বরাদ্দ চাল পঞ্চায়েতে পাঠানো হলেও সুন্দরী বিবি তাঁর বরাদ্দ চাল পাননি। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে হাসনাবাদের মানুষ পথে নেমে প্রতিবাদ আন্দোলনে শামিল হবেন। প্রয়োজনে ঘেরাও করা হবে ব্লক অফিস।

Powered by Drupal, an open source content management system