বিদেশী হাতের ধুয়ো তুলে বিপাকে পড়েছে কেন্দ্র
নয়াদিল্লি, ১৮ই আগস্ট- আন্না হাজারের গ্রেপ্তার নিয়ে সংসদে বিদেশী শক্তির হাত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীই। বৃহস্পতিবার সেই বিবৃতি নিয়ে দিনভর প্রবল সমস্যায় কাটালো ইউ পি এ সরকার। এদিন সেই বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে সরব রইলেন বিরোধীরা। কিন্তু, গোটা দিনে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কোনো বিবৃতি মেলেনি। চুপ কংগ্রেস নেতারাও।
গত বুধবার, আন্না হাজারেকে গ্রেপ্তারের পরেরদিন সংসদে বিবৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে, ভারতের অগ্রগতি ব্যাহত করতে সক্রিয় বিদেশী শক্তির হাত থাকার আশঙ্কা জানান তিনি। যদিও কোনো দেশের নাম নির্দিষ্টভাবে করেননি তিনি। এদিকে, মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের তরফে আন্না হাজারেকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার চলে। বুধবার কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রশিদ আলভি আবার নাম করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেন। সরকারকে বিষয়টি দেখতেও বলেন। বৃহস্পতিবারও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি আরো ঘোরালো হয়েছে, বুধবার কংগ্রেস আলভির মন্তব্যের দায় নিতে অস্বীকার করায়।
মনমোহন সিং সরকার এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের অন্ধ মার্কিনপ্রেম সুবিদিত। ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে কৌশলগত সঙ্গীর পর্যায়ে উন্নীত করার নীতি মসৃণভাবে রূপায়ণ করে চলেছে দল এবং সরকার। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি প্রসঙ্গে সি পি আই (এম) পলিট ব্যুরো সদস্য এবং সাংসদ সীতারাম ইয়েচুরির মন্তব্য, এই সরকারই তো স্বেচ্ছায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পিছু চলা সঙ্গীর মানে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশ্চর্য ব্যাপার, সেই ইউ পি এ সরকারই এখন এই ধরনের সতর্কতা জারি করছে। তিনি বলেন, জরুরী অবস্থা জারির সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর যুক্তির সঙ্গে মনমোহন সিংয়ের বক্তব্যের উদ্বেগজনক সাযুজ্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতিকে সন্দেহজনক আখ্যা দিয়ে তাঁর মন্তব্য, ইন্দিরা গান্ধীও জরুরী অবস্থা জারির সমর্থনে বিদেশী শক্তির অজুহাত দিয়েছিলেন।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আন্তর্জাতিকস্তরে ভারত এখন গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে বিকাশমান। আন্তর্জাতিকস্তরে ভারতের যথাযোগ্য মর্যাদার বিপক্ষে সক্রিয় অনেক শক্তি। বিরোধীদের খোঁচা দিতে চেয়ে তিনি বলেন, আমরা যেন এই সব শক্তির স্বার্থ অনুযায়ী না চলি। অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে যেন দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ রুদ্ধ হওয়ার মতো পরিবেশ না তৈরি হয়।
এদিন সি পি আই নেতা এবং সাংসদ ডি রাজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলুন কারা সেই শক্তি যারা ভারতকে আটকাতে তৎপর। না হলে ওই বিবৃতির কোনো মানে থাকে না। প্রধানমন্ত্রীকেই ব্যাখ্যা দিতে হবে।
বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা পেয়ে যায় মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রচার হওয়ায়। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, হাজারের গ্রেপ্তারের বিরোধিতা করে কড়া বিবৃতি জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। আরো বলা হয়, শান্তিপূর্ণভাবে বক্তব্য জানানোর অধিকার এবং অহিংস প্রতিবাদ প্রক্রিয়া সমর্থন করে মনমোহন সিং সরকারের পদক্ষেপের নিন্দা করা হয়েছে। এর পরই কংগ্রেস মুখপাত্র রশিদ আলভি সংবাদমাধ্যমে হাজারের বিক্ষোভের পিছনে মার্কিন মদত থাকার অভিযোগ তোলেন।
এদিন মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া নুলান্ড বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। ‘কড়া বিবৃতি’ দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। সূক্ষ্ম কূটনৈতিক এই শব্দবন্ধ ছাড়া, এদিনও মার্কিন মুখপাত্র যা বলেছেন তাতে সরাসরি বক্তব্য প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। নুলান্ড বলেন, আমরা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছি না। কিন্তু, গোটা বিশ্বে আমরা মত প্রকাশের অধিকার এবং জমায়েতের স্বাধীনতার সমর্থক। সব গণতান্ত্রিক সরকারেরই বিরোধ জানানোর অধিকার বজায় রাখার দায়িত্ব আছে। মার্কিন মুখপাত্রের আরো উপদেশ, ভারতে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য থাকায় মানুষের প্রত্যাশাও রয়েছে। তবে মার্কিন সেনেটর জন ম্যাককেন আবার বলেছেন ভারতে কোনো বিক্ষোভে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়। থাকার ইচ্ছেও নেই।
এদিন, কংগ্রেসের অপর মুখপাত্র রেনুকা চৌধুরীকে আলভির মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। চৌধুরী এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়াসে বলেন, আলভি এখানে নেই। তার হয়ে আমি বলতে পারবো না। অনেক সময় মানুষের ভুল হয়েও তো যায়। আলভির বক্তব্যই কি পার্টির বক্তব্য? চৌধুরীর জবাব, আমি ঠিক জানি না! এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হওয়ার নীতির অপর প্রবক্তা বি জে পি-ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। বি জে পি নেতা শাহনওয়াজ হুসেইন বলেন, বিদেশী শক্তির জন্য দেশে দুর্নীতি হয়নি। দুর্নীতির জন্য দায়ী কংগ্রেসই।
এদিন ইয়েচুরি দুর্নীতি নিয়ে কংগ্রেস এবং বি জে পি’র গোপন সমঝোতার আশঙ্কা জানিয়েছেন। লোকসভায় বিবৃতির ওপর বিতর্কের পর প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দেওয়ার দায় থেকে রেহাই দেয় বি জে পি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিদাম্বরমকে জবাব দেওয়ার দাবি তোলে লোকসভার প্রধান বিরোধী দল। তার উল্লেখ করে ইয়েচুরি বলেন, প্রশ্ন উঠতে বাধ্য ফের গোপন সমঝোতা হয়েছে কিনা। এভাবেই তো সমঝোতা করে মূল্যবৃদ্ধির দায় থেকে কেন্দ্রকে রেহাই দিয়েছে বি জে পি। একইসঙ্গে ইয়েচুরি স্পষ্ট বলেছেন, জরুরী অবস্থার বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ লড়াই করেছিলেন দেশবাসী। গণতন্ত্রের ওপর আঘাত নামলে তার চেয়েও দৃঢ় লড়াই হবে আজ।

Recent comments
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 38 weeks ago
1 year 39 weeks ago
1 year 39 weeks ago
1 year 39 weeks ago